ঢাকা ০২ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শৃঙ্খলিত নগরায়ন, স্বনির্ভর রাজধানীর অঙ্গীকার রমজানে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে দেশবন্ধু গ্রুপ মাতৃভাষার মর্যাদায় একুশের সন্ধ্যা: ঢাবি থিয়েটার বিভাগের উদ্যোগ ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ পেল ‘Bhalobashi Bolte Chai’ মিউজিক ভিডিও, মডেল সুষ্মিতা নজর কাড়লেন কুষ্টিয়া-১ আসনে নিরঙ্কুশ জয়; দৌলতপুরে বিএনপির শক্ত অবস্থান এনডিইউবি ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন ইংলিশ সাথে ছিল ফ্যান্টাসী কিংডম ও আল্টিমেট স্পোর্টস বসুন্ধরা টিস্যুর পারফরমার'স মিট অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭: তপু রায়হান ঘোষণা করলেন ঐক্যমতের নির্বাচনী ইশতেহার ডেইলি সানের উদ্যোগে ইংলিশ মিডিয়াম ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে রাউন্ড টেবিল, উন্মোচন হলো “বিয়ন্ড বর্ডারস” নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হল ১০ম ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার

ইসরায়েলের চেয়েও বেশি দিন ফ্রান্সে বন্দি, এবার মুক্তি পেলেন আব্দুল্লাহ

#

ডেস্ক রিপোর্ট

২৬ জুলাই, ২০২৫,  12:47 PM

news image

প্রায় ৪১ বছর কারাভোগের পর অবশেষে ফ্রান্সের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি নাগরিক জর্জ আব্দুল্লাহ। শুরুতে কেবল জাল পাসপোর্ট ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও পরে তার বিরুদ্ধে কূটনীতিক হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

১৯৮৪ সালে প্যারিসে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। তখন ধারণা করেছিলেন, তাকে ইসরায়েলি ঘাতক দল অনুসরণ করছে। পরে জানা যায়, ফরাসি গোয়েন্দারাই তাকে গ্রেপ্তার করতে যাচ্ছিল।

তার বিরুদ্ধে প্রথমে বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও, এক পর্যায়ে তার বাসা থেকে ‘কূটনীতিক হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র’ পাওয়ার কথা বলে প্যারিস পুলিশ। তখন থেকেই তার মুক্তি অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এরপর ১৯৮৫ সালে প্যারিসে একাধিক বোমা হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। ফরাসি মিডিয়া ও রাজনীতিকরা অভিযোগ করেন, আব্দুল্লাহর মুক্তির দাবিতে এই হামলা চালিয়েছে তার সমর্থকেরা। যদিও পরবর্তীতে জানা যায়, হামলাগুলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর পরিকল্পনায় হয়েছিল।

আব্দুল্লাহ কূটনীতিক হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও হামলাকারীদের পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

১৯৯৯ সাল থেকে ১০ বার মুক্তির আবেদন করেন আব্দুল্লাহ। একবার তা প্রায় গ্রহণযোগ্য হলেও, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ফ্রান্সকে চিঠি দিয়ে তার মুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান জানান। উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া সে চিঠির পর মুক্তির সিদ্ধান্ত আটকে যায়।

এছাড়া ফ্রান্সের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস আনুষ্ঠানিক মুক্তি আদেশে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।

চলতি বছর ফ্রান্সের আদালত নতুন করে রায় দিয়ে জানায়, আব্দুল্লাহ আর হুমকি নন, তার দণ্ডকালও ছিল অনুপাতহীন। তবে তাকে মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রান্স থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

তার আইনজীবী বলেন, “এটি ন্যায়বিচারের জয়। তবে এটি একটি রাজনৈতিক লজ্জা, আগে মুক্তি না পাওয়াটা।”

২০২২ সালের নোবেলজয়ী সাহিত্যিক অ্যানি এরনাক্সসহ অনেকে তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করেছেন। অ্যানি বলেন, “ফ্রান্সকে লজ্জিত হওয়া উচিত।”

ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান ইয়ভেস বোনেট, যিনি পরে অতি ডানপন্থী রাজনীতিতে যোগ দেন, বলেছেন: “তার সঙ্গে সিরিয়াল কিলারের চেয়েও খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তাকে আটকে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মরিয়া ছিল।”

লা মন্ডে পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে পর্যন্ত কোনও ফিলিস্তিনি বন্দি এতদিন কারাগারে ছিলেন না। জর্জ আব্দুল্লাহ ৪১ বছর ধরে বন্দি ছিলেন—এই রেকর্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলেও আলোড়ন তুলেছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি