আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, 11:47 PM
কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ভারতের ‘ট্রায়াড’ শক্তিশালী, বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত উদ্বেগ
পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাম্প্রতিক পরীক্ষাকে ভারতের কৌশলগত সক্ষমতায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে আইএনএস আরিঘাত থেকে চালানো এই পরীক্ষা ভারতের নৌভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে দৃশ্যমান করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের তথাকথিত ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’—স্থল, আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতাকে পূর্ণতা দিয়েছে। এর ফলে ভারত এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে কোনো আক্রমণের পরও সমুদ্রের গভীর থেকে পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব।
কে-৪ মূলত অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের সমুদ্রভিত্তিক সংস্করণ। তবে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণের জন্য এতে জটিল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সক্ষমতাও তুলে ধরে। বিশেষ করে পানির নিচে উৎক্ষেপণ ও নিরাপদভাবে রকেট ইঞ্জিন চালুর প্রযুক্তি এই ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষাকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ভারত–পাকিস্তান ও ভারত–চীন সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এই পরীক্ষা নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সফলতা দেশটির সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।