বড়াইগ্রাম পৌরসভার প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 9:08 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 9:08 PM
বড়াইগ্রাম পৌরসভার প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগে রহনপুর পৌরসভায় কর্মরত থাকার সময় ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে হস্তক্ষেপ করে পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের চাকরিজীবনে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নুরুল ইসলাম বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। নাটোরের নিজ এলাকায় এবং পাবনায় শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ থাকারও অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী শাহানাজ পারভীন মালার নামেও প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পদের উৎস, মালিকানা ও বৈধতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি এবং জমি-সম্পত্তির দলিল পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নুরুল ইসলাম রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একজন প্রকৌশলী হিসেবে পৌরসভায় প্রভাব বিস্তার করতেন। অফিস সময়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে তার সম্পর্কে ভিন্ন একটি দাবিও পাওয়া গেছে। নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি করেন না; বরং প্রয়োজন হলে রাত ১১টা পর্যন্ত অফিসে থেকে কাজ করেছেন।
এআই দিয়ে পুলিশের পোশাকের ছবি তৈরির অভিযোগ
নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ হলো- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশের পোশাক পরিহিত ছবি তৈরি করে তা দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং জিম্মি করে অর্থ আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা।
তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা নথি পাওয়া গেছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী, ডিজিটাল প্রমাণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
এছাড়া পাবনায় নুরুল ইসলামের শ্যালকের একটি জুসের দোকান রয়েছে এবং সেটিতে নুরুল ইসলাম অর্থের জোগান দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
নুরুল ইসলামের বক্তব্য
অভিযোগগুলোর বিষয়ে নুরুল ইসলাম সবকিছু অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কিডনি রোগে আক্রান্ত। সৎভাবে জীবনযাপন করি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। অফিসের কাজে কোনো ফাঁকি দিই না। বরং মাঝে মাঝে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করি।”
চাকরিজীবনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৬ সালে কাকনহাট পৌরসভায় যোগদানের পর ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রহনপুর পৌরসভায় কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে তিনি বড়াইগ্রাম পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন।
নিজের সম্পদ সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া বাজারের পাশে। সেখানে কী বাড়ি আছে, আপনারা সেটা দেখে আসতে পারেন। আমার শ্বশুরবাড়ি পাবনায় একটি টিনশেড বাড়ি আছে।”
পরবর্তীতে এসএমএসের মাধ্যমে তিনি আরও বলেন, “উপরের ছবিটা ১৫ আগস্টের। তখন কার সময়ের। অন্যভাবে নিয়েন না। আমি সাধারণ জীবনযাপন করি। আমার সম্পর্কে আপনাকে কেউ ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আমার পরিবার, বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি- তারাও সাধারণ। নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতো অবস্থা। আপনি ভালোভাবে খোঁজখবর নিলে সব সত্য জানতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। আজ ২০ বছর সততার সঙ্গে চাকরি করে আসছি। কোনোদিন কেউ খারাপ বলেনি।”
অনুসন্ধান চলমান
নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার নথিপত্র, প্রকল্পের কার্যাদেশ ও বিল-ভাউচার, কাজের মান-সংক্রান্ত প্রতিবেদন, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নেপথ্যে আসলে কী-অভিযোগের সত্যতা, নাকি ব্যক্তিগত/রাজনৈতিক বিরোধ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
চলবে…