ঢাকা ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ‘জরুরি’ ধারা ব্যবহার করে ব্যাপক নিয়োগ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা আমদানি: জালিয়াতির নথি ও অদক্ষদের কাজ দেওয়ার অপচেষ্টা রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবসে মঞ্চে ফিরছে ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান ভূরাজনীতির পালাবদলে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরীক্ষা অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী ​কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন ইতিহাস: 'জেডএফসি ২'-এ দেশি-বিদেশি ফাইটারদের লড়াই বিশ্বমানের জুলকান ইনডোর এরিনা: দেশীয় ফাইটারদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম পর্যটনপণ্য ও সেবা নিয়ে আইসিসিবিতে মেলা

শ্রমিকের ঘামেই গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতা: কাদের গনি চৌধুরী

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ মে, ২০২৬,  3:37 PM

news image

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, শ্রম ও শ্রমিক—এই দুইয়ের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে আজকের আধুনিক সভ্যতা।

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সভ্যতার বিকাশে শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি হলেও তারা যথাযথ মর্যাদা পান না। অবহেলা ও বঞ্চনার মধ্যেই কাটে তাদের জীবন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে নানা বঞ্চনার শিকার। অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা না দিলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন নিচ্ছে।

তিনি বলেন, “আজ আমরা যে অট্টালিকায় বাস করি, প্রতিটি ইটে রয়েছে শ্রমিকের ঘাম। তাজমহল থেকে শুরু করে আধুনিক স্থাপনা—সবকিছুর পেছনেই শ্রমিকের অবদান।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, দুবাইয়ের মিউজিয়াম অব দ্য ফিউচার কিংবা বিলাসবহুল গাড়ি—সবকিছুর পেছনেই শ্রমিকের শ্রম রয়েছে।

সমাজে বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সমাজ যেন দুই শ্রেণিতে বিভক্ত—মালিক ও শ্রমিক। অথচ বাস্তবে সবাই কোনো না কোনোভাবে শ্রম দেন, অর্থাৎ সবাই শ্রমিক।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরে কাদের গনি বলেন, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৯০ জনে, আর ২০২৪ সালে ৮২০ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যথাযথ সহায়তা পায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা এখনও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

কাদের গনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা যাচ্ছেন, অথচ এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। তিনি কার্যকর শ্রম আইন প্রয়োগ, পরিদর্শন জোরদার এবং নিরাপত্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে এবং ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। তিনি দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রা ও আনন্দ বিচিত্রা পুনরায় চালুর দাবি জানান, যাতে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি