ঢাকা ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
অস্ত্রোপচার ছাড়াই প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ থেকে রক্ষা প্রায় শত কোটি টাকার মালিক লিটন, দুদুকে মামলার প্রস্তুতি ব্যারিস্টার সাফায়েত মোহাম্মদ রাজু ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত সিইএস ২০২৬ প্রদর্শনীতে উন্মোচন হলো আসুসের আরওজি গেমিং ল্যাপটপ দেশজুড়ে ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করল বাংলালিংক ১৩৬ কোটি টাকা আত্মসাত: সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বন্ড দুঃখজনক, কিন্তু অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে ফ্রি ফ্রিজ ও টিভি বসুন্ধরা পিএইচসি পাইলের সমঝোতা স্বাক্ষর গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

কর্মনিষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা, সুরের এক নীরব সাধক

#

ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ অক্টোবর, ২০২৫,  12:15 AM

news image

তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা—দায়িত্বে দৃঢ়, কর্মে নিবেদিত। কিন্তু তার অন্তরে বাস করে এক অনন্য সত্তা—একজন শিল্পী, এক গায়ক, যিনি সুরের মায়াজালে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যান নীরবে, নিভৃতে।
মীর সাজেদুর রহমান—নামটি হয়তো অনেকের কাছে শুধু একজন পরিচালক (প্রশাসন) কর্মকর্তার পরিচয় বহন করে, কিন্তু সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে তিনি এক লুকিয়ে থাকা রত্ন। অফিসের গাম্ভীর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই মানুষটি যখন মাইক্রোফোন হাতে নেন, তখন তার কণ্ঠে জেগে ওঠে আবেগ, স্মৃতি আর এক অন্যরকম প্রশান্তি।
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে তিনি মাঝে মাঝে আপলোড করেন তার গাওয়া গান। সেখান থেকেই জানা যায় তার এই অনন্য প্রতিভার কথা। তার কণ্ঠে যখন বাজে “এই পথ যদি না শেষ হয়”, বা “চাঁদে যদি আড়াল পড়ে”, তখন মনে হয় সময় থেমে গেছে কোথাও। যেন হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো ফিরে আসে—ছোটবেলার বিকেল, প্রথম প্রেম, কিংবা কোনো এক পুরনো রেডিওর নস্টালজিয়া।
বাংলা ও হিন্দি—দুই ধারাতেই সমান পারদর্শী তিনি। মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার কিংবা এন্ড্রু কিশোর—যারই গান তিনি পরিবেশন করেন, তার কণ্ঠে যেন সেই সুরগুলো পায় নতুন প্রাণ। তার গানে মিশে থাকে একধরনের কোমল আবেগ, যা কেবল কান নয়, হৃদয়কেও নাড়া দেয়।
তবুও তিনি আলোচনার বাইরে, কারণ গান তার কাছে কোনো প্রদর্শন নয়—এ এক আত্মার সাধনা। তিনি বিশ্বাস করেন, সঙ্গীত মানে আত্মার প্রশান্তি, নিজের সঙ্গে সংলাপ। হয়তো সেই কারণেই তার প্রতিটি গানে মিশে থাকে জীবনের গভীরতা, ভালোবাসা, আর মমতার এক অনির্বচনীয় ছোঁয়া।
কিন্তু মীর সাজেদুর রহমান শুধুই একজন শিল্পী নন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সরকারি কর্মকর্তা—যিনি নিজের দায়িত্বে যেমন সততার পরিচয় দেন, তেমনি সহকর্মীদের প্রতি মমতায় হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় মানুষ। তার মহানুভবতা, সহমর্মিতা ও উদারতা তাকে কর্মস্থলে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
সহকর্মী থেকে শুরু করে অধীনস্থ কর্মচারী—সবার কাছেই তিনি একজন শ্রদ্ধার পাত্র, এক মানবিক নেতার প্রতীক। তিনি শেখান, দায়িত্ব ও মানবতা একে অপরের পরিপূরক। কর্মক্ষেত্রে তার নিষ্ঠা যেমন অনুকরণীয়, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে তার নরম হৃদয়, পরোপকারী মনোভাব এবং সুরের প্রতি গভীর ভালোবাসা মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়।
আজকের যান্ত্রিক জীবনে এমন মানুষ সত্যিই বিরল—যিনি কর্তব্য ও কণ্ঠ, কর্ম ও করুণার মধ্যে এক সুন্দর ভারসাম্য রচনা করেছেন।
মীর সাজেদুর রহমান আমাদের মনে করিয়ে দেন, শিল্প মানে শুধু মঞ্চ নয়—বরং এটি এক নীরব সাধনা, যা মানুষের ভেতরের আলো জ্বালায়।
শেষকথা:
তার এই মহত্ত্ব, উদারতা ও সঙ্গীতপ্রেম নিঃসন্দেহে তাকে আগামীতে সাফল্যের আরও উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা তার সকল শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও শ্রোতাদের।
সংগীতে হাতে খড়ি না থাকলেও, তিনি তার স্বাভাবিক প্রতিভা, নিষ্ঠা ও গভীর অনুভূতির শক্তিতে হয়ে উঠেছেন এক অনন্য কণ্ঠশিল্পী—যার সুরে আছে জীবনের স্পন্দন, মমতার ছোঁয়া, আর মানুষের অন্তর ছোঁয়ার এক মায়াবী শক্তি।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি