ঢাকা ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার, ওয়ালটনের উৎপাদন সক্ষমতায় মুগ্ধ এমইএস গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের আয়োজনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত প্রকৌশলী মালেকের ঢাকা-গাইবান্ধার সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায় আবাসন খাতে নীতিসহায়তার দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলো, মাঠে গড়াচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ আইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজারআইসিসিবিতে ক্রেতাদের সাড়ায় জমজমাট সুপার সেল কার বাজার সামরিক শাসনের প্রথম অধ্যায়: পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ছেদ রাজউকের আবাসনে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অক্টোবরে মাঠে গড়াচ্ছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেট ও ফুটবল

প্রকৌশলী মালেকের ঢাকা-গাইবান্ধার সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন

#

অনলাইন ডেস্ক

১১ অক্টোবর, ২০২৬,  7:35 PM

news image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ লেনদেন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে নাচোল পৌরসভায় দায়িত্ব পালনকালে পাইপলাইন ও সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজে সম্পৃক্ততা, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই জেলায় কর্মরত থাকার সুবাদে আব্দুল মালেক বিভিন্ন পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানা গেছে। 

উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, রহনপুর পৌরসভার একটি ‘লিনিক’ প্রকল্পের জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটির আওতায় প্রায় চার কোটি টাকার দৃশ্যমান কাজ হলেও কাজের মান ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় চার কোটি টাকার কাজ আড়াই কোটি টাকায় সম্পন্ন করে অবশিষ্ট প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, প্রকল্পটি নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করেই কাজ শেষ করা হয়েছে। এমনকি পৌরসভার কর্মসম্পাদন কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া পৌরসভার বিশেষ বরাদ্দ উত্তোলন, হাটবাজারসংক্রান্ত একাধিক চেক গ্রহণ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও কোটেশনের মাধ্যমে পরিচালিত কাজে বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। 

নাচোল পৌরসভার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ


রহনপুর পৌরসভায় যোগদানের আগে আব্দুল মালেক নাচোল পৌরসভায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে পাইপলাইন ও সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। 

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মামলার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পেতে তিনি উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। 

‘নিজেই ঠিকাদার, নিজেই প্রকৌশলী’- এমন অভিযোগ


রহনপুর পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি কার্যক্রমের সঙ্গে আব্দুল মালেকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজেও তাঁর প্রভাব রয়েছে। এ ছাড়া রহনপুর উপজেলা পরিষদের সামনে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার সাইদুল ইসলামের কার্যালয়ে তিনি নিয়মিত সময় কাটান এবং পৌরসভার একাধিক কাজ ওই ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

আব্দুল মালেকের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গাইবান্ধা, ঢাকা ও রহনপুরে তাঁর জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পদ রয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি গাইবান্ধা জেলা শহরের কোর্ট এলাকায় চার ইউনিটের একটি ভবন, বাণিজ্যিক দোকান, গোখামার এবং বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমি থাকার দাবি করেছেন স্থানীয় সূত্রগুলো।

রহনপুর পৌরসভার মডেল স্কুলসংলগ্ন এলাকায় জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর সন্তান ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেন।

অভিযোগকারীদের মতে, চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা

সম্প্রতি আব্দুল মালেককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘দুর্নীতির চিত্র’ ও ‘বাক স্বাধীনতা’ নামের কয়েকটি পেজে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগসংক্রান্ত পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেখ বুলু নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী রহনপুর পৌরসভার উন্নয়নকাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান, নির্ধারিত কার্যতালিকা কাজের স্থানে প্রদর্শন না করা এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেন। পোস্টে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তোলা হয়।

দীর্ঘ চাকরিজীবন ও জবাবদিহির প্রশ্ন

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেক ২০০০ সালে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রহনপুর পৌরসভায় যোগদান করেন। এর আগে নাচোল পৌরসভায় কর্মরত ছিলেন। একই জেলায় তাঁর দীর্ঘ চাকরিজীবন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে তাঁর মোট চাকরির মেয়াদ ও বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময়কাল সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রশাসকের বক্তব্য


অভিযোগগুলোর বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রহনপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “আপনাদের প্রথম পর্বের নিউজে দুদকে অভিযোগের কথা বলা আছে। যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে তারা নেবে। আর প্রশাসক হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে আমরা একটি চিঠি ইস্যু করতে পারি।”

বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত কর্মকর্তার

প্রথম পর্বের সংবাদ প্রকাশের আগে আব্দুল মালেকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে খুদে বার্তায় তিনি লেখেন, “ব্যস্ততার কারণে আপনার ফোন ধরতে পারিনি। এই কারণে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

পরবর্তীতে অভিযোগগুলো লিখিতভাবে পয়েন্ট আকারে পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। দ্বিতীয় পর্বের সংবাদ প্রকাশের আগেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের দাবি এবং তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদসংক্রান্ত বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হবে।


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি