ডেস্ক রিপোর্ট
০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 11:06 PM
বাড়িতে লুকিয়ে রাখা অর্থ এখন ব্যাংকে: কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ জানালেন অর্থ উপদেষ্টা
দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার একটি ভিন্ন কারণের কথা বলেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, অনেকদিন ধরে বাড়িতে লুকিয়ে রাখা অর্থ এখন ব্যাংকে জমা দেওয়ার কারণে এই সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ার কারণ কী? উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "এটা হতে পারে অনেকদিন ধরে টাকা লুকিয়ে রেখেছিল বাড়ির ভিতরে, এখন ব্যাংকে জমা দিচ্ছে।" তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, "টাকা-পয়সা যে নেই লোকজনের কাছে অনেক ক্ষেত্রে এটা সত্য।"
বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখায় যে, দেশে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের জুন প্রান্তিক থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে, যা জুন শেষে ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি।
তবে মজার বিষয় হলো, এই কোটিপতি হিসাবগুলোতে জমার পরিমাণ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত কমেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টি। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন হিসাব খোলা হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি।
একই সময়ে ব্যাংকে আমানতও কিছুটা বেড়েছে। জুন শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে তা দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫টি। এরপর বিভিন্ন সময়ে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যেমন, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি, ২০২০ সালে ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালের মার্চ শেষে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।