ঢাকা ০৫ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
কাশ্মির, বেলুচিস্তান ও পাকিস্তানের গণতন্ত্রের সংকট শ্রীপুর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের ২০২৬-২০২৮ কার্যনির্ব্হী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি সোলায়মান, সম্পাদক কাশেম রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান হোক সাংবিধানিক কাঠামোতে গোবিন্দগঞ্জে ২০ অসচ্ছল নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের সেলাই মেশিন দুর্নীতির পুরোনো জালে আটকে গেল জুলাইয়ের স্বপ্ন সাইবার সন্ত্রাস রোধে সরকারের সাহসী উদ্যোগ অন্ধকার ভেদ করে আলো ফিরিয়ে দিল বসুন্ধরা আই হসপিটাল তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত, শিগগিরই সফরের আশা আস্থার বীজ বুনতে পারলেই বদলাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আস্থার বীজ বুনতে পারলেই বদলাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

শেখ হাসিনাকে ছাড়াই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত: দ্য উইককে মির্জা ফখরুল

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  11:41 PM

news image

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী বাধা হতে পারেন না। তাঁকে ছাড়াই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।

ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দলীয় সংস্কার, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পানি বণ্টন সমস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্য বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি মহাসচিব।

‘দ্য উইক’-এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এডিটর নম্রতা বিজি আহুজার এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রথমত, পানি বণ্টন সমস্যার শুধু আলোচনা নয়, আন্তরিক সমাধান প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে—এটি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয়ত, বাণিজ্য বৈষম্য ন্যায্যভাবে মোকাবিলা করতে হবে।”

তিনি বলেন, ক্রিকেটকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রয়োজনীয় ছিল, যা উভয় পক্ষেই প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সার্বভৌমত্ব, আত্মসম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রেখে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। খালেদা জিয়ার শোকের সময় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফরকে তিনি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি একটি ফ্যাক্টর হলেও তা অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এই সংকট তৈরি করেছেন। দীর্ঘ মেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক তাঁর ঊর্ধ্বে গিয়ে এগিয়ে নেওয়া উচিত।”

ছাত্রদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপি জোট না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিএনপি চেষ্টা করেছিল, তবে এনসিপি অতিরিক্ত আসন দাবি করেছিল। নতুন প্রতীক নিয়ে তাদের প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে বিএনপি নিশ্চিত ছিল না বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। এটাই আমাদের অবস্থান।”

জাতীয় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভোটাররা তাদের অধিকার ফিরে পেতে মুখিয়ে আছেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন। তিনি জানান, সরকার গঠন করা হলে আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গড়া হবে, যেখানে জামায়াতের কোনো স্থান থাকবে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার কর্মসূচি তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির ভিশনের মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই টার্মে সীমাবদ্ধ করা, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি