ঢাকা ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ‘জরুরি’ ধারা ব্যবহার করে ব্যাপক নিয়োগ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা আমদানি: জালিয়াতির নথি ও অদক্ষদের কাজ দেওয়ার অপচেষ্টা রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবসে মঞ্চে ফিরছে ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান ভূরাজনীতির পালাবদলে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরীক্ষা অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী ​কমব্যাট স্পোর্টসে নতুন ইতিহাস: 'জেডএফসি ২'-এ দেশি-বিদেশি ফাইটারদের লড়াই বিশ্বমানের জুলকান ইনডোর এরিনা: দেশীয় ফাইটারদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম পর্যটনপণ্য ও সেবা নিয়ে আইসিসিবিতে মেলা

এনসিপি-জামায়াত জোট প্রায় চূড়ান্ত, নারী নেত্রীদের ভেটো ও পদত্যাগের হুমকি

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫,  2:24 PM

news image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।

দল দুটির শীর্ষ নেতাদের একাধিক বৈঠকের পর নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এনসিপি ও জামায়াতের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তবে জোটের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এনসিপির ভেতরে তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের ছয় নারী নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একসঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই দিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা জামায়াতের সঙ্গে প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া আসন সমঝোতার বিরুদ্ধে ভেটো দেন।

এনসিপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বৈঠকে অংশ নেওয়া নারী নেত্রীদের কয়েকজন জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে দল থেকে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দেন। তারা বিএনপির সঙ্গে জোট বা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তবে তাদের জানানো হয়, বিএনপির সম্ভাব্য আসন ছাড় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে পারে, দল হিসেবে এনসিপির জন্য নয়।

এ পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও নির্বাহী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত নারী নেত্রীদের কেউই এই সিদ্ধান্তে সম্মত হননি।

গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম ও তাজনুভা জাবিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং নাহিদা সারোয়ার নিভা। জোট হলে তাসনিম জারার আসন প্রায় নিশ্চিত হলেও তাজনুভা জাবিন (ঢাকা-১৭) ও নাহিদা সারোয়ার নিভা (ঢাকা-১২) মনোনয়ন হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন,

‘আমরা রাজনৈতিক লক্ষ্য, আগামী নির্বাচন ও জোট নিয়ে আহ্বায়কের সঙ্গে আলোচনা করেছি। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে লাভ-ক্ষতি, আমাদের রাজনৈতিক বয়ান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি কী হবে—এসব বিষয় উঠে এসেছে।’

এদিকে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘নারী নেত্রীদের একটি অংশ এই জোট চান না এবং তারা চাপ প্রয়োগ করছেন। তবে বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব একমত। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।’

দলীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল। এসব বৈঠকে সংস্কার, বিচারসহ মৌলিক ইস্যুতে দুই দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে। আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনের নিশ্চয়তা চাইলেও জামায়াত প্রাথমিকভাবে ৩০ আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনায় ৩০ থেকে ৫০ আসনে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। জোট চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’

এদিকে এনসিপি-জামায়াত সম্ভাব্য জোট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও বাড়ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ এক ফেসবুক পোস্টে এই জোটকে ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : তানভীর সানি