নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 11:56 PM
গোপন বৈঠক, জাতীয় সরকার ও কূটনৈতিক বার্তা—জামায়াত আমিরের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। জাতীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের তথ্য সামনে এনে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শফিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের শুরুতে একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তবে বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন ওই কূটনীতিকই। এমন বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সরকার কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
জাতীয় সরকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশকে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখতে সব দলের অংশগ্রহণ জরুরি। দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচিকে তিনি সম্ভাব্য জাতীয় সরকারের অন্যতম অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো সরকারই বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকবে না। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সমর্থনে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দিন। যদিও তিনি নিজে প্রয়োজনে মেয়াদের মাঝপথে পদ ছাড়ার কথা বলেছেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নে শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন, জামায়াত কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকতে চায় না। “আমরা সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই”—বলেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই সাক্ষাৎকার নির্বাচনের আগেই দলটির অবস্থান, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।